নড়াইল অফিস:
নড়াইল সদর উপজেলার বড়কুলা গ্রামে বাবা-ছেলেসহ চাঞ্চল্যকর চার হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সকালে হামলায় নিহত ওসিবুর ফকিরের বাবা ওসমান ফকির বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
অন্যদিকে, গত (২৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে নিহত খলিল শেখের ছেলে রুবেল শেখ বাদী হয়ে পৃথক আরেকটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ৬৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ৪০ থেকে ৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে ১২ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বাকিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিংগাশোলপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. খায়েরুজ্জামান মোল্যা খায়েরের সঙ্গে খলিল শেখের পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে একাধিকবার উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।
এরই জেরে গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সেহরির পর খায়ের চেয়ারম্যানের সমর্থকরা খলিল শেখের সমর্থকদের ওপর হামলা চালায়। এ সময় খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জদ শেখ এবং চাচাতো ভাই ফেরদৌস শেখকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ঘটনাস্থলেই হত্যা করা হয়।
ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে নেওয়া হলে চেয়ারম্যান সমর্থিত ওসিবুর ফকিরকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।
গত মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে খলিল শেখ, তার ছেলে তাহাজ্জুদ শেখ ও চাচাতো ভাই ফেরদৌস শেখের মরদেহ সিংগাশোলপুর বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে পাশাপাশি দাফন করা হয়। একই দিন বিকেলে ওসিবুর ফকিরের মরদেহ তারাপুরে দাফন করা হয়।
এ বিষয়ে নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওলি মিয়া মুঠোফোনে জানান, বড়কুলা গ্রামের ৪টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত পরিবারের সদস্যরা পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা করেছেন। আসামিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশ তৎপর রয়েছে।